এ উদ্যোগ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এ বছর সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে ১ হাজার ৫ টন লবণ পাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে সর্বনিম্ন বরাদ্দ পাচ্ছে বান্দরবান, মাত্র ১৫ টন।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় বিসিক। শুরুতে ৩০ হাজার টনের পরিকল্পনা করা হলেও পরে মাঠ প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ১১ হাজার ৫৭১ টন বিতরণ করা হয়। ২০ কোটি টাকার ওই লবণ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে দেশে লবণের উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে এবারো বরাদ্দ ২০ কোটি টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তাই লবণ বিতরণের পরিমাণ ১ হাজার ৭৫২ টন কমিয়ে ৯ হাজার ৮১৯ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছর দেশে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি করা হয়। এখান থেকে চামড়া সংগ্রহ করে দেশের অধিকাংশ ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান। তবে লবণের অপর্যাপ্ততার কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংরক্ষণ করা যায় না। এজন্য সরকারিভাবে দেশের ৬৪ জেলায় ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
বিসিক বলছে, লবণ বিতরণে এ বছর আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মিল মালিকদের জন্য জেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট দর নির্ধারণ করে দিয়েছে সংস্থাটি, যা টনপ্রতি সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও প্রতি টন লবণ পরিবহনের জন্য ৫০০ টাকা দেয়া হবে। এবার লবণ সরবরাহের জন্য কক্সবাজারে সর্বনিম্ন এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধিত মিলগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী বরাদ্দ পেয়েছে। ঈদুল আজহার অন্তত এক সপ্তাহ আগে এ লবণ মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেশে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে লবণের উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এবার ২৫ লাখ টনের বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সর্বশেষ ১২ মে পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৯২ হাজার টন। এ প্রেক্ষাপটে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লবণের দাম মণপ্রতি (৪৪ কেজি) দাম ৩৫০ থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা হয়েছে। বাড়তি দামের কারণে আগের বছরের তুলনায় পৌনে দুই হাজার টন কম লবণ বিতরণ করবে বিসিক।
চট্টগ্রামের মেসার্স লাল মিয়া সল্ট অ্যান্ড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বছর বিনামূল্যের লবণ বিতরণের জন্য বিসিক অনেক আগেই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম অনেক বেড়ে গেছে।’ যানবাহনের বাড়তি ভাড়া ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঈদের আগে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের উদ্দেশ্যে ১৫ এপ্রিল সারা দেশের মিল মালিকদের তালিকা চেয়ে পাঠায় বিসিক। সংস্থাটির লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এবার শুধু নিবন্ধিত ও উৎপাদন চলমান থাকা মিলগুলোর মাধ্যমে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের নির্দেশনা দেয়া হয়।
২৩ এপ্রিল বিসিকের পরিচালক (শিল্প উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিনামূল্যে লবণ বিতরণে জেলাভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠনসহ ১১টি নির্দেশনা জারি করা হয়। সর্বশেষ ১২ মে সারা দেশের মিলগুলোকে জেলাভিত্তিক লবণ সরবরাহের জন্য বরাদ্দপত্র চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।
বিসিকের লবণ সেল প্রধান সরোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদের আগে সড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলে জটিলতা ও ভাড়া বৃদ্ধির কারণে লবণের প্রকৃত দাম বেড়ে যায়। তাই পূর্বাভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এজন্য যানবাহনের ভাড়া ও লবণের মূল্য বাড়িয়ে বরাদ্দপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।’ তাই মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো সংকট হবে না বলে দাবি করেন বিসিকের এ কর্মকর্তা।